হাওরের পানি নিষ্কাশন বিলম্বিত !! বোরো চাষাবাদে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা

 

বিশেষ প্রতিনিধি
নিম্নচাপ, অসময়ে বৃষ্টিপাত এবং কোনো কোনো স্থানে নদীর তলদেশ শুকিয়ে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সুনামগঞ্জের হাওর সংলগ্ন নদীর পানি কমছে না। একারণে এবার বোরো চাষাবাদ বিলম্বিত হতে পারে। কৃষকরা বলেছেন, চাষাবাদ বিলম্বিত হলে ধান পাকার মৌসুমে ফসল তলিয়ে যাবার আশংকা থাকে।
সুনামগঞ্জের হাওর সংলগ্ন সব কয়টি নদীর পানির উচ্চতা এখনো হাওরের তলদেশের অনেক উপরে। একারণে হাওরের পানি নিষ্কাশন বিলম্বিত হচ্ছে। জেলার বড় হাওরপাড়ের কৃষকরা এখনো বীজতলা তৈরির উদ্যোগ নেন নি। পানি নিষ্কাশন বিলম্বিত হলে চাষাবাদ বিলম্বিত হবে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও ব্যাহত হতে পারে।
জেলার পাগনার হাওরপাড়ের হঠামারা গ্রামের কৃষক আব্দুল হেকিম বলেন, এখনো গরু বাঁধের উপরে রাখা রয়েছে, হাওরে থৈ-থৈ পানি, কেউ এখনো বীজতলা তৈরি করে নি।
এই হাওরপাড়ের ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু তালুকদার বলেন, কার্তিক মাসে বৃষ্টি হওয়ায় নদীর পানি বেড়ে হাওরে পানি ঢুকেছে। হাওরের পানি বের হচ্ছে না। নদীর পানি সামান্য কমেছে। গত সপ্তাহে আমরা ইউনিয়ন পরিষদের সভা করে ইউপি সদস্যদের বলে দিয়েছি হাওরের যে দিকে গভীর, ওই অংশের বাঁধ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে কেটে দিতে হবে। না হয় চাষাবাদ বিলম্বিত হবে এবং ধান পাকার মৌসুমে অকাল বন্যাসহ নানাভাবে ফসল বিনষ্ট হতে পারে। তিনি জানান, গেল মৌসুমে এই সময়ে বীজতলায় ৫০ ভাগ বীজ বপনের কাজ শুরু হয়েছিল। এবার কেউ বীজতলায় হাতই দেয় নি।
দিরাই উপজেলার কালিয়াকোটা ও বরাম হাওরের মাঝখানের গ্রাম রাজাপুরের বড় কৃষক আব্দুস ছত্তার বলেন, বরাম, কালিকোটা এবং শাল্লা ও নেত্রকোণার খালিয়াজুরির ছায়ার হাওরে থৈ থৈ করছে পানি। হাওরের পাড় ভাসে নি। নদীতে পানি বেশি থাকায় এই অবস্থা। সময়মত চাষাবাদ হবে, কী না এই নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার রাধানগর গ্রামের বড় কৃষক কফিল উদ্দিন বলেন, ‘কার্তিক মাসের চাঁন্দের (চাঁদের) মধ্যে বীজতলায় বীজ বপন করা জরুরি। এরপর ৫-৬ সপ্তাহ্ পর রোয়া দিতে হবে। না হয় সময়মত ধান পাকবে না। ধান অকাল বন্যাসহ নানাভাবে নষ্ট হবার আশংকা থাকে। খরচার হাওরের পাশের রক্তি নদীতে পানি গত সপ্তাহে বেড়েছে, আগামী সপ্তাহ গেলে বুঝা যাবে কী হবে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. সফর উদ্দিন বলেন, আমি নতুন এসেছি, অফিসের রেকর্ড অনুযায়ী গত বছরের ৫ নভেম্বর জেলার অনেক স্থানেই বীজ বপন হয়ে যায়। এবার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা বলেছেন, আজ (৭ নভেম্বর) পর্যন্ত কোথাও বীজতলা তৈরিই হয় নি। তিনি জানান, কার্তিক মাসের শেষে বোরো’র বীজ বপন হয়। ৩৫ থেকে ৪০ দিন পর বোরো’র রোয়া শুরু হয়। এবার সুনামগঞ্জ জেলায় বোরো’র চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে দুই লাখ ১৯ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, গত ২৫ অক্টোবর সুনামগঞ্জের নদীগুলোর পানির উচ্চতা ছিল ৪.৩০ মিটার। ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত বৃষ্টি হওয়ায় পানির উচ্চতা বেড়ে হয় ৫.৫ মিটার। নদীতে পানি থাকায় হাওরের পানি নামছে না। তবে হাওরের পানির উচ্চতা কমেছে। পানির উচ্চতা বৃহস্পতিবার ছিল ৪.১৫ মিটার। হাওরে এবং উজানে বৃষ্টিপাত না হলে এবং সাগরে নি¤œচাপ না হলে নদীর পানি কমবে, সেই সাথে হাওরের পানিও কমবে। পাগনার হাওরের পানি নামানোর জন্য প্রয়োজনীয় অংশে বাঁধ কাটা হয়েছে। হাওরের গজারিয়া স্লুইসগেটও দ্রুত ওঠিয়ে দেওয়া হবে।

 

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬৭ বার