দিরাই কলেজে হামলা ভাংচুর : ছাত্রলীগ আহবায়কসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ- সুনামগঞ্জের দিরাই সরকারি কলেজে হামলা ভাংচুর ও শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়ক চন্ডিপুর গ্রামের আছাব উদ্দিনের ছেলে মারুফ আহমদ জয়কে প্রধান আসামী করে ১৮ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করেন হামলার শিকার দিরাই সরকারি কলেজের শিক্ষক মিজানুর রহমান পারভেজ। কলেজে হামলা ভাংচুর ও শিক্ষক লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে ৩ দিনের কর্মবিরতি দিয়েছেন শিক্ষকরা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কলেজে পুরস্কার বিতরনী চলাকালীন সময়ে কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়কের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী কায়দায় অনুষ্ঠান মঞ্চে উঠতে চাইলে শিক্ষক মিজানুর রহমান পারভেজ বাধা প্রদান করেন। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তার উপর হামলা চালায়। তিনি আরো উল্লেখ করেন হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতকভাবে এ হামলা করা হয়। এ ঘটনায় দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে তিন দিনের কর্মবিরতি ও ক্লাস বর্জনের ঘোষনা দেয় কলেজের শিক্ষকরা। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় দিরাই সরকারি কলেজের রাগীব রাবেয়া ভবনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ধীমান কীর্তুনিয়া এ ঘোষণা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারি অধ্যাপক আ ন ম শোয়েব চৌধুরী, প্রভাষক মোহাম্মদ ফখর উদ্দিন চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম তালুকদার, সন্দীপন দাস, কামরুল কবির, অঞ্জন দাস, রুনু রঞ্জন ভৌমিক প্রমুখ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দিরাই সার্কেল আবু সুফিয়ান দৈনিক দিরাই – শাল্লা ডটকমকে  বলেন, দিরাই কলেজে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় একটা অভিযোগ পেয়ে তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
উল্লেখ্য শনিবার দিরাই সরকারি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহের পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান চলছিল। কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়ক বিএ তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মারুফ আহমদ জয় ও একই বলয়ের মেহেদীসহ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা শিক্ষক পাভেজ রহমানকে মারধর করে। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি পুরস্কারসহ চেয়ার ভাংচুর করে ত্রাস সৃষ্টি করলে কলেজ প্রাঙ্গনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতংকে হৈ হল্লোড় শুরু করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।